Monday, September 3, 2018
রবীন্দ্রনাথ ও নাস্তিকতা
রবীন্দ্রনাথ ও নাস্তিকতা...
কবি মূলত ভাববাদী ছিলেন, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি যে বাস্তব জগত সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না, সেটা বোঝা যায়, তাঁর নানা চিন্তা থেকে। ধর্মের সমালোচনা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি নিয়ে তিনি তো সরব হয়েছেনই, এমনকি তিনি বিশেষ অবস্থায় নিররীশ্বরবাদী দর্শনেরও প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দঃ কবি ও সন্ন্যাসী
।। রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দঃ কবি ও সন্ন্যাসী।।
রবীন্দ্রনাথের জোড়াসাঁকোর বাড়ি থেকে বিবেকানন্দের সিমলার বাড়িটা খুব দূরে ছিল না। মাত্র দেড় কিলোমিটার। কিন্তু তাঁদের চিন্তার মধ্যে দূরত্ব ছিল।
রবির সঙ্গে নরেনের সম্পর্ক কেমন ছিল, সেটা সত্যি বলতে কী, খুব স্পষ্ট নয়।
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে বিবেকানন্দের যোগাযোগ ছিল। রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথের ছেলে দ্বীপেন্দ্রনাথের সহপাঠী ছিলেন নরেন্দ্রনাথ, মানে বিবেকানন্দ। সেই সূত্রে যোগাযোগ। ভালো গানের গলা ছিল বিবেকানন্দের। তা ছাড়া ব্রাহ্মদের সম্পর্কেও আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই সূত্রে জোড়াসাঁকোর সঙ্গে নরেন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল। প্রায় সমবয়সী রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলাপও সেই সময় থেকেই।
তার পর অবশ্য দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গেছে বেঁকে। রামকৃষ্ণ আন্দোলনে জড়িয়েছেন নরেন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ তৈরি করেছেন শান্তিনিকেতন।
১৯০২-এ মারা যান বিবেকানন্দ। সেই সময় তিনি যথেষ্ট বিখ্যাত। রবীন্দ্রনাথও। অথচ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিবেকানন্দ বিশেষ কিছু বলেননি। রবীন্দ্রনাথও তা-ই। পূর্বসূরি, সমসাময়িক, উত্তরসূরি অনেকের সম্পর্কেই অকাতরে মন্তব্য করেছেন রবি ঠাকুর। কিন্তু বিবেকানন্দের জীবদ্দশায় তাঁর সম্পর্কে কিছু বলেননি রবীন্দ্রনাথ। অবশ্য পরে সেটা তিনি পুষিয়ে দিয়েছিলেন কিছুটা হলেও।
তবে বিবেকানন্দ ‘রবীন্দ্রসংগীত’ ভালোবাসতেন। ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ গানটা তাঁর খুব প্রিয় ছিল। বিবেকানন্দ সম্পদিত গানের বইয়েও (‘সংগীত কল্পতরু’) রবীন্দ্রনাথের একাধিক গান সংকলিত হয়। ব্রাহ্মসমাজ ও অন্যান্য নানা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন বিবেকানন্দ।
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিবেকানন্দ ভালো কিছু বলেছিলেন, এমন পাকা প্রমাণ মেলে না। কিছু স্মৃতিকথা থেকে যা জানা যায়।
নিবেদিতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে নরেন-রবি সাক্ষাৎও হয় দু’চার বার। কিন্তু দু’জনেই একে অপরের প্রতি নিষ্পৃহ ছিলেন বলেই সাক্ষ্য মেলে। বিবেকানন্দ ঠাকুর পরিবার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন শিষ্যা নিবেদিতাকে। অন্তত একটা লেখায় কিশোর রবীন্দ্রনাথের ‘মেয়েলি’ ভাব নিয়ে কটাক্ষও করেছিলেন বিবেকানন্দ। (‘পরিব্রাজক’) অথচ ‘মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে’ রবি ঠাকুরের লেখা গানটা প্রিয় ছিল বিবেকানন্দের!
রোমা রোলার ‘ভারতবর্ষের দিনপঞ্জি’তে না কি একটা উক্তি আছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথের অবদান স্বীকার করেছেন বিবেকানন্দ।
অন্য দিকে, আমেরিকার ধর্ম মহাসভা থেকে ফেরার পর শোভাবাজার রাজবাড়িতে বিবেকানন্দের সংবর্ধনা সভায় গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই সভায় কিছু বলেছিলেন কি না, জানা যায় না। মিশনের বইতে কি কিছু আছে?
অনেকে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘রথের রশি’ নাটকে কবি ও সন্ন্যাসীর চরিত্র দুটো রবীন্দ্রনাথ জথাক্রমে নিজের এবং বিবেকানন্দের আদলেই গড়েছিলেন।
বিবেকানন্দ মারা যাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকটা সভায় হাজির হয়ে বিবেকানন্দের প্রশংসা করেন। ভবানীপুরের একটা বড় আকারের শোকসভায় তিনি দীর্ঘ ভাষণ দেন। অথচ যে রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দের লেখা, বক্তৃতা, স্মৃতি রক্ষায় নিখুঁত পেশাদারিত্ব সহ যত্নশীল, তারা বিবেকানন্দ সম্পর্কিত রবীন্দ্রনাথের ভাষ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে কেন সেই পেশাদারিত্ব দেখাল না, বোঝা মুশকিল। (যদিও, মৃত্যুর পর শোকসভার ভাষণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত হয়। তাই প্রকৃত মনোভাব সেই বক্তব্য থেকে জানা সম্ভব নয়। আলগা চিঠিপত্রের ঘরোয়া, আটপৌরে আলোচনাতেই আসল মনোভাবটা জানা যায়। যা, রবি-নরেন সংক্রান্ত স্মৃতিকথায় অভাব আছে।)
মনে হয়, বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা করলেও তাঁকে যে রূপে রবীন্দ্রনাথ দেখতে চাইতেন, সেটা বাস্তবের সঙ্গে মিলত না। অনেকে মনে করেন, ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ যে হিন্দু ‘গোরা’র চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, বিবেকান্দ’কে ওইভাবেই দেখতে চাইতেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা হত না। ফলে বিবেকানন্দ সম্পর্কে তাঁর মধ্যে হয়তো একটা পরস্পরবিরোধী মনোভাব কাজ করত।
এমনও হতে পারে, বিবেকানন্দের ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’ ঝোঁক’টা উপনিষদের ঋষিসুলভ চোখ দিয়ে ‘ভারতের শাশ্বত ধর্ম’কে দেখা ‘বিশ্বকবি’র ভালো লাগত না।
sudip_moitra
রবির সঙ্গে নরেনের সম্পর্ক কেমন ছিল, সেটা সত্যি বলতে কী, খুব স্পষ্ট নয়।
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে বিবেকানন্দের যোগাযোগ ছিল। রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথের ছেলে দ্বীপেন্দ্রনাথের সহপাঠী ছিলেন নরেন্দ্রনাথ, মানে বিবেকানন্দ। সেই সূত্রে যোগাযোগ। ভালো গানের গলা ছিল বিবেকানন্দের। তা ছাড়া ব্রাহ্মদের সম্পর্কেও আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই সূত্রে জোড়াসাঁকোর সঙ্গে নরেন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল। প্রায় সমবয়সী রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলাপও সেই সময় থেকেই।
তার পর অবশ্য দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গেছে বেঁকে। রামকৃষ্ণ আন্দোলনে জড়িয়েছেন নরেন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ তৈরি করেছেন শান্তিনিকেতন।
১৯০২-এ মারা যান বিবেকানন্দ। সেই সময় তিনি যথেষ্ট বিখ্যাত। রবীন্দ্রনাথও। অথচ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিবেকানন্দ বিশেষ কিছু বলেননি। রবীন্দ্রনাথও তা-ই। পূর্বসূরি, সমসাময়িক, উত্তরসূরি অনেকের সম্পর্কেই অকাতরে মন্তব্য করেছেন রবি ঠাকুর। কিন্তু বিবেকানন্দের জীবদ্দশায় তাঁর সম্পর্কে কিছু বলেননি রবীন্দ্রনাথ। অবশ্য পরে সেটা তিনি পুষিয়ে দিয়েছিলেন কিছুটা হলেও।
তবে বিবেকানন্দ ‘রবীন্দ্রসংগীত’ ভালোবাসতেন। ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ গানটা তাঁর খুব প্রিয় ছিল। বিবেকানন্দ সম্পদিত গানের বইয়েও (‘সংগীত কল্পতরু’) রবীন্দ্রনাথের একাধিক গান সংকলিত হয়। ব্রাহ্মসমাজ ও অন্যান্য নানা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন বিবেকানন্দ।
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিবেকানন্দ ভালো কিছু বলেছিলেন, এমন পাকা প্রমাণ মেলে না। কিছু স্মৃতিকথা থেকে যা জানা যায়।
নিবেদিতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে নরেন-রবি সাক্ষাৎও হয় দু’চার বার। কিন্তু দু’জনেই একে অপরের প্রতি নিষ্পৃহ ছিলেন বলেই সাক্ষ্য মেলে। বিবেকানন্দ ঠাকুর পরিবার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন শিষ্যা নিবেদিতাকে। অন্তত একটা লেখায় কিশোর রবীন্দ্রনাথের ‘মেয়েলি’ ভাব নিয়ে কটাক্ষও করেছিলেন বিবেকানন্দ। (‘পরিব্রাজক’) অথচ ‘মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে’ রবি ঠাকুরের লেখা গানটা প্রিয় ছিল বিবেকানন্দের!
রোমা রোলার ‘ভারতবর্ষের দিনপঞ্জি’তে না কি একটা উক্তি আছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথের অবদান স্বীকার করেছেন বিবেকানন্দ।
অন্য দিকে, আমেরিকার ধর্ম মহাসভা থেকে ফেরার পর শোভাবাজার রাজবাড়িতে বিবেকানন্দের সংবর্ধনা সভায় গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই সভায় কিছু বলেছিলেন কি না, জানা যায় না। মিশনের বইতে কি কিছু আছে?
অনেকে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘রথের রশি’ নাটকে কবি ও সন্ন্যাসীর চরিত্র দুটো রবীন্দ্রনাথ জথাক্রমে নিজের এবং বিবেকানন্দের আদলেই গড়েছিলেন।
বিবেকানন্দ মারা যাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকটা সভায় হাজির হয়ে বিবেকানন্দের প্রশংসা করেন। ভবানীপুরের একটা বড় আকারের শোকসভায় তিনি দীর্ঘ ভাষণ দেন। অথচ যে রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দের লেখা, বক্তৃতা, স্মৃতি রক্ষায় নিখুঁত পেশাদারিত্ব সহ যত্নশীল, তারা বিবেকানন্দ সম্পর্কিত রবীন্দ্রনাথের ভাষ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে কেন সেই পেশাদারিত্ব দেখাল না, বোঝা মুশকিল। (যদিও, মৃত্যুর পর শোকসভার ভাষণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত হয়। তাই প্রকৃত মনোভাব সেই বক্তব্য থেকে জানা সম্ভব নয়। আলগা চিঠিপত্রের ঘরোয়া, আটপৌরে আলোচনাতেই আসল মনোভাবটা জানা যায়। যা, রবি-নরেন সংক্রান্ত স্মৃতিকথায় অভাব আছে।)
মনে হয়, বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা করলেও তাঁকে যে রূপে রবীন্দ্রনাথ দেখতে চাইতেন, সেটা বাস্তবের সঙ্গে মিলত না। অনেকে মনে করেন, ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ যে হিন্দু ‘গোরা’র চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, বিবেকান্দ’কে ওইভাবেই দেখতে চাইতেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা হত না। ফলে বিবেকানন্দ সম্পর্কে তাঁর মধ্যে হয়তো একটা পরস্পরবিরোধী মনোভাব কাজ করত।
এমনও হতে পারে, বিবেকানন্দের ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’ ঝোঁক’টা উপনিষদের ঋষিসুলভ চোখ দিয়ে ‘ভারতের শাশ্বত ধর্ম’কে দেখা ‘বিশ্বকবি’র ভালো লাগত না।
sudip_moitra
প্রসঙ্গঃ অটলবিহারি বাজপেয়ী
প্রসঙ্গঃ অটলবিহারি বাজপেয়ী
অটলবিহারি বাজপেয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিলেন কি না, কিংবা তিনি ব্রিটিশের গুপ্তচর ছিলেন কি না, জানি না। কিন্তু এটা বেশ মনে করতে পারি যে, বাবরি মসজিদ ভাঙার ‘আন্দোলন’এ তাঁর ভূমিকা এল কে আদবানি, অশোক সিংঘল বা উমা ভারতীদের চেয়ে কিছু কম ছিল না।
বাবরি ভাঙার কথা উঠলেই নরসিমহা রাও (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী), কল্যাণ সিং (উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী), অশোক সিংঘল (বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রধান), আদবানি, উমা ভারতী, বিনয় কাটিয়ার প্রমুখকে নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বাদ পড়ে যান অটলবিহারি বাজপেয়ী। অথচ রামমন্দির আন্দোলনের শুরু থেকেই বাজপেয়ী ছিলেন প্রথম সারিতে। ওই আন্দোলনে আদবানি-সিংঘল স্ট্রাইকার, উমা-বিনয়’রা উইংগার হলে, বাজপেয়ী ছিলেন মিডফিল্ডার, স্কিমার। আদবানিরা গোল করেছেন। কিন্তু একটু নীচে থেকে খেলাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন বাজপেয়ী। রথযাত্রায় আদবানি ছাড়া অন্য কাউকে মানাত না। যেমন ‘নায়ক’-এ উত্তমকুমারের জায়গায় অনুপকুমার থাকলে ছবিটা জমত না! আসল কৃতিত্ব কিন্তু সত্যজিতের।
১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর বাবরি ভাঙা হয়। তার আগে বেশ কয়েক দিন ধরে অকুস্থলে লাগাতার সভা-সমাবেশ করেছিলেন বিজেপি ও সংঘ পরিবারের তাবড় নেতানেত্রীরা। বাজপেয়ীও ছিলেন আগাগোড়া, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ৫ ডিসেম্বর লখনউয়ের কাছে আমিনাবাদের ঝান্ডেওয়াল পার্কের সমাবেশে তাঁর বক্তৃতা শুনুনঃ
“...এমন কি, সুপ্রিম কোর্টও করসেবা বন্ধ করতে পারবে না। সত্যি বলতে কী, আদালতই আমাদের করসেবার রাস্তাটা দেখিয়ে দিয়েছে। অযোধ্যা য় করসেবা করলে আমাদের আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হবে না। বরং করসেবা করলেই শীর্ষ আদালতের রায়কে মান্যতা দেওয়া হবে।
লখনউ বেঞ্চের রায় বেরোনোর আগে পর্যন্ত কোর্ট আমাদের নির্মাণকাজ করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু তারা বলেছে, আমরা সেখানে ভজন, কীর্তন করতে পারি। ভজন এক জনে করা যায় না। অনেকে মিলে করতে হয়। কীর্তন করতে তো আরও বেশি লোক লাগে। এবং ভজন-কীর্তন দাঁড়িয়ে করা যায় না। বসে করতে হয়। কিন্তু জায়গাটা তো সূচালো পাথরে ভরা, সেখানে বসে কিছু করতে গেলে আগে জমিটা সমান করতে হবে। যজ্ঞের আয়োজন করতে হবে। যজ্ঞ করার জন্য আমাদের একটা বেদি বানাতে হবে।... কাল যে কী হবে, আমি জানি না...। আমি অযোধ্যাতেই যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে দিল্লিতে যেতে বলা হয়েছে।” লিবারহান কমিশন এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে অভিযুক্ত করেছিল বাজপেয়ীকে। ঠিকই করেছিল। কিন্তু বাজপেয়ীর যুক্তি ছিল, ‘হালকা চালে বলেছিলাম। উসকানি তো কিছু ছিল না...।” আপনাদেরও কি তা-ই মনে হয়, বন্ধুরা?
সেই সময় বাবরি মসজিদ ভাঙার জমি তৈরি করার জন্য এক দিকে যেমন একটানা উসকানিমূলক ভাষণ চলছিল, অন্য দিকে তেমনই ইমারত ভাঙার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল করসেবক’দের।
বিবিসি’র রিপোর্ট কী বলছে, দেখা যাক।
বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রস্তুতি চলছিল আগে থেকেই এবং ঘটনার আগের দিন একদল হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক এটির 'ড্রেস রিহার্সেল' দিয়েছিল। আলোকচিত্র সাংবাদিক প্রভীন জৈন ছবি তোলার জন্য এই হিন্দু স্বেচ্ছাসেবকদের অনুসরণ করছিলেন। সেদিনের ঘটনার অনেক ছবিও তুলেছেন তিনি। প্রভীন জৈন বিবিসির কাছে বর্ণনা করেছেন সেদিনের ঘটনাবলী:
“আমি অযোধ্যা এসে পৌঁছাই ১৯৯২ সালের ৪ ডিসেম্বর। সেই সন্ধ্যায় অযোধ্যা ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন।
আমি তখন 'দ্য পাইওনীয়ার' পত্রিকায় কাজ করি। তারা আমাকে এই অ্যাসাইনমেন্টে পাঠিয়েছে। হিন্দু কর সেবক এবং উগ্রপন্থী হিন্দু নেতাদের যে দলটি বাবরি মসজিদ চত্ব্বরে সমবেত হবে, আমাকে তাদের ছবি তুলতে হবে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হাজার হাজার কর্মী তখন সেখানে জড়ো হয়েছে। এই দলটি ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। ভারতে যে সব হিন্দু দল এবং গোষ্ঠী সক্রিয়, তাদের আদর্শগত নেতৃত্বে আছে এই আরএসএস। এসব দলের মধ্যে আছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিও, যারা এখন ভারতের শাসনক্ষমতায়।
হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মনে করে বাবরি মসজিদ যেখানটায় তৈরি করা হয়েছে, সেটি আসলে হিন্দু দেবতা রামের জন্মভূমি। মসজিদের কাছে তারা একটি হিন্দু মন্দির তৈরির পরিকল্পনা করছিল। হিন্দু নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা মসজিদ স্পর্শ করবেন না। আর তাদের কর্মসূচী মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সেখানে একটি ধর্মীয় প্রার্থনা আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
একজন বিজেপি এমপির সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, ৫ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার একটা মহড়া হবে।
তিনি আমাকে আরও জানিয়েছিলেন, শীর্ষ নেতারা তাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এই মহড়ায় যেন সাংবাদিকরা কোনভাবেই হাজির থাকতে না পারে।
তিনি আমাকে বললেন,"তবে আপনি আমার বন্ধু এবং আমি আপনাকে বন্ধু হিসেবে এই তথ্যটা দিলাম।”
“আমি তখন ছদ্মবেশে এই হিন্দু করসেবকদের সঙ্গে মিশে গেলাম। আমার মাথায় পট্টি বাঁধা, গায়ে গেরুয়া রঙের স্কার্ফ। জ্যাকেটের গায়ে সাঁটা একটা ব্যাজ, যা দেখে সবাইকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হবে। মসজিদের অল্প দূরেই একটা ফুটবল মাঠের সমান একটা জায়গায় সবাই জড়ো হচ্ছিল। আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো। হাজার হাজার মানুষ তখন সেখানে জড়ো হয়েছে যাদের সবার মাথায় পট্টি বাঁধা এবং গায়ে গেরুয়া বসন। ব্যাজ পরা হিন্দু করসেবকরা পুরো জায়গাটি ঘিরে রেখেছে।
যে আমাকে সেখানে ঢুকতে সাহায্য করেছিল, সে আমাকে বলেছিল, একমাত্র এভাবেই আপনি এই মহড়ার ছবি তুলতে পারবেন। "আমার কাছাকাছি থাকুন, অন্য করসেবকদের মতো শ্লোগান দিন, ওদের সঙ্গে মিশে যান। এতে করে আপনি নিরাপদও থাকবেন।"
তবে আমি হঠাৎ দেখলাম একটা মোটাসোটা লোক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার ক্যামেরা বন্ধ করতে বলছে। আমি আমার বুকে লাগানো ব্যাজ দেখিয়ে আর সবার মতো জোরে জোরে শ্লোগান দিতে থাকলাম। তখন লোকটি মাথা ঝাঁকিয়ে দূরে দাঁড়ানো একদল মানুষের কাছে যেতে ইঙ্গিত করল।
কিন্তু আমি আমার ক্যামেরায় ছবি তুলতে শুরু করলাম। আমার সামনে তখন অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটে চলেছে।
শাবল, কুড়াল, বেলচা এবং লোহার রড নিয়ে তখন লোকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তারা এক বিরাট মাটির ঢিবি ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছে।
সবকিছুই ঘটছিল খুব পরিকল্পিত এবং সুচারুভাবে। এদের দেখে মনে হচ্ছিল না তারা কেবল স্বেচ্ছাসেবক, যেভাবে পেশাদারী কায়দায় তারা কাজ করছিল তাতে মনে হচ্ছিল কিভাবে একটা বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলতে হবে সেটা তারা ভালোভাবেই জানে।
ভারত সরকারের নিয়োগ করা যে লিবারহান কমিশন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্ত করেছিল, ২০০৯ সালে তারা তাদের রিপোর্টে এই মহড়ার কথা উল্লেখ করেছিল।
এতে বলা হয়েছিল, "কমিশনের কাছে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে বিতর্কিত এই কাঠামোটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য একটি মহড়া দেয়া হয়েছিল। কমিশনের কাছে এর কিছু ছবিও জমা পড়েছে। তবে এটি ভাঙ্গার জন্য কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল কিনা, তার নিশ্চিত প্রমাণ নেই। যদিও কিছু অবস্থাগত প্রমাণ এবং কিছু সাক্ষ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে করসেবকদের এটি ভাঙ্গার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।"
আমি একটা লোকের ছবি তুলেছিলাম, যার মুখ রুমালে ঢাকা ছিল। সবার মধ্যে একমাত্র সেই তার মুখটি আড়াল করে রেখেছিল। মাটির ঢিবিটা যারা ধ্বংস করে সরিয়ে নিচ্ছিল, লোকটি চিৎকার করে তাদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছিল।
একটি দক্ষিণপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীর নেতা গোছের বলে মনে হচ্ছিল তাকে। সেজন্যেই সে তার পরিচয় প্রকাশ করতে চাইছিল না।
মাটির ঢিবিটা শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলা হলো। হিন্দু করসেবকরা এরপর সোল্লাসে চিৎকার করতে লাগলো।
আমি জ্যাকেটের মধ্যে আমার ক্যামেরা লুকিয়ে ফেললাম এবং সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। আমি তখনো লোকজনের সঙ্গে শ্লোগান দিচ্ছিলাম। কিন্তু আমার ভেতরে একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল। আমিই হচ্ছি একমাত্র আলোকচিত্র সাংবাদিক, যে এই ঘটনার ছবি তুলতে পেরেছি।
পরের দিন বাবরি মসজিদের কাছেই একটি ভবনের চার তলায় আমরা সাংবাদিকরা অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখান থেকে বাবরি মসজিদ দেখা যায়। সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বিজেপির নেতারা যে সভামঞ্চ তৈরি করেছেন, সেটিও চোখে পড়ে। প্রায় দেড় লাখ হিন্দু করসেব সেখানে জড়ো হয়েছে।
সেখানে থাকা পুলিশ পর্যন্ত করসেবকদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে শ্লোগান দিচ্ছিল। দুপুরের একটু পর জনতা উন্মত্ত হয়ে উঠলো। যে পুলিশ বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মসজিদ ঘিরে রেখেছিল, তাদের বেষ্টনি ভেঙ্গে ফেললো জনতা।
কিছু লোক আমরা যে ভবনে ছিলাম, তার চার তলায় উঠে এলো। তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালালো। ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেললো। কয়েক মিটার দূরেই যে মসজিদ ভাঙ্গার কাজ চলছে, সেটার কোন 'ফোটোগ্রাফিক' প্রমান যেন না থাকে।
মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হলো বাবরি মসজিদ।
আমি দৌড়াতে দৌড়াতে আমার হোটেলে ফিরে এলাম।
ততক্ষণে দাঙ্গা শুরু হয়ে গেছে। আমি চারিদিকে পুলিশের সন্ধান করছিলাম, যারা সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু লোকজন তখন দোকান বন্ধ করছে, বাড়ির দরোজায় খিল দিচ্ছে। জানালা বন্ধ করছে।
যেদিন এভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হলো, একজন হিন্দু হয়ে আমি সেদিন লজ্জিত বোধ করছিলাম।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্ত করে যে 'লিবারহান কমিশন' তার সামনে আমি সাক্ষ্য দিয়েছিলাম। এই মামলার শুনানি চলছে যে বিশেষ আদালতে, সেখানে এখনো মাঝে মধ্যে আমাকে ডেকে পাঠায় সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিবিআই)।
২৫ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছিল, এখনো পর্যন্ত তাদের কারও সাজা হয়নি।”
[প্রভীন জৈন এখন ভারতের 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' পত্রিকার এসোসিয়েট ফটো এডিটর। তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসির অনসুয়া বসু।]
‘কোবরা পোস্ট’-এর স্টিং অপারেশনেও প্রমাণিত পরিষ্কার তথ্য মেলে যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা কোনও আকস্মিক ব্যাপার ছিল না। পরিকল্পনামাফিকই ব্যাপারটা ঘটানো হয়েছিল। যার জেরে দেশব্যাপী দাঙ্গায় মৃত্যু হয় কয়েক হাজার নিরীহ মানুষের।
কোবরা’র হুল বেঁধা থেকে কী জানা গিয়েছিল? দেখা যাক।
রামজন্মভূমি আন্দোলনের গবেষণাধর্মী ইতিহাস রচনার নামে কোবরাপোস্টের অ্যাসোসিয়েটেড এডিটর অযোধ্যা, ফয়জাবাদ, মথুরা, লক্ষ্ণৌ, মোরাদাবাদ, মুম্বই, গোয়ালিয়র-সহ ১১টি জায়গা ঘুরে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ২৩ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেন৷
তাঁদের কথোপকথনের গোপন রেকর্ডিং-এর ভিত্তিতে দাবি করা হয়, ‘অপারেশন জন্মভূমি' নামে বাবরি মসজিদ ভাঙার ছক কষা হয়েছিল অনেক আগে থেকে।
ধ্বংসকাণ্ড যাতে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়, তার জন্য সংঘ পরিবারের বিভিন্ন শাখার ৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নিয়ে তাঁদের ঐ কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল লোকচক্ষুর আড়ালে৷ ‘লক্ষ্মণ সেনা' নামে ঐ ৩৮ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মী৷ প্রথম চেষ্টায় যদি বাবরি মসজিদ ভাঙা না যায়, তাহলে দ্বিতীয় বিকল্প ছিল ডিনামাইট ব্যবহার করা৷ এই চক্রান্তের কথা জানতেন লালকৃষ্ণ আডবানি, উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-সহ বিজেপির কিছু শীর্ষ নেতা৷ শুধু তাই নয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও নাকি পরিকল্পনার কথা টের পেয়েছিলেন. কিন্তু ঠেকাবার কোনো কড়া পদক্ষেপ নেননি – এমনও অভিযোগ করা হয়৷
এই প্রসঙ্গে এক উর্দু সংবাদপত্রের সম্পাদক মনে করেন, বাবরি মসজিদ এমন প্রযুক্তিতে তৈরি, যা ধ্বংস করা সাধারণ লোহার রড, শাবল, কোদাল, গাঁইতির দ্বারা সম্ভব নয়৷ ব্যবহার করা হয়েছিল কম শক্তির বিস্ফোরক, যার জন্য দরকার হয়েছিল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং বিশেষজ্ঞের৷
এত কিছু পরিকল্পনা, কর্মকাণ্ড, প্রশিক্ষণ— সব হয়েছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা কাম শীর্ষনেতা কাম কাণ্ডারী অটলবিহারি বাজপেয়ীকে না জানিয়ে, তাঁকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে, অগোচরে? এটা কি মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে?
আমাদের অবশ্য এর উলটোটাই সত্যি বলে মনে হয়। অর্থাৎ, তিনি সব জানতেন শুধু নয়, রামমন্দির আন্দোলনের কাহিনী-চিত্রনাট্য-সংলাপ-সংগীত এবং পরিচালনার অন্যতম মূল দায়িত্বই ছিল তাঁর। ওই ‘নায়ক’ সিনেমার মতোই— রামমন্দির আন্দোলনে আদবানি ‘উত্তমকুমার’ হলে বাজপেয়ী ছিলেন সত্যজিৎ!
রাম জন্মভূমিতে সেই যে সাম্প্রদায়িক হিংসার বীজ পোঁতা হল, তা থেকেই জন্ম হল বিষবৃক্ষের। আজ সেই গাছটাই ডালপালা মেলে গোটা ভারত ছেয়ে ফেলেছে। বিষের বলিও তো কম হচ্ছে না। এর দায় থেকে কি বাদ রাখা হবে বাজপেয়ীকে?
বাংলা সিরিয়ালের সমস্যা
ভয়াবহ পরিস্থিতি...
কেন বন্ধ বাংলা সিরিয়াল ? কী কী দাবি তুলেছেন কলাকুশলীরা ?
বাংলা বিনোদনের প্রত্যেকটি চ্যানেলেই আপাতত বন্ধ থাকছে সিরিয়াল৷ তবে জানা গিয়েছে, টাইমস্লট জিইয়ে রাখতে বেশিরভাগ সিরিয়ালের পুরনো এপিসড রিপিট হিসেবে দেখানো হবে ৷
কলকাতা: বন্ধ বাংলা সিরিয়াল ৷ টেলিভিশন জুড়ে সকাল থেকে বিকেল, সন্ধে থেকে রাত অবধি চলা একের পর সিরিয়ালে এবার ক্ষণিকের ইতি ৷ খবর অনুযায়ী, সোমবার বন্ধ থাকবে সিরিয়ালের সম্প্রচার ৷
বাংলা বিনোদনের প্রত্যেকটি চ্যানেলেই আপাতত বন্ধ থাকছে সিরিয়াল৷ তবে জানা গিয়েছে, টাইমস্লট জিইয়ে রাখতে বেশিরভাগ সিরিয়ালের পুরনো এপিসড রিপিট হিসেবে দেখানো হবে ৷
কলকাতা: বন্ধ বাংলা সিরিয়াল ৷ টেলিভিশন জুড়ে সকাল থেকে বিকেল, সন্ধে থেকে রাত অবধি চলা একের পর সিরিয়ালে এবার ক্ষণিকের ইতি ৷ খবর অনুযায়ী, সোমবার বন্ধ থাকবে সিরিয়ালের সম্প্রচার ৷
এক নজরে কলাকুশলীদের দাবি--
১। প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন
২। বকেয়া বেতন দিয়ে দিতে হবে
৩। শিল্পীরা সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজ করবেন
৪। ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে ঘণ্টাপ্রতি টাকা
৫। ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া টাকা মেটাতে হবে
২। বকেয়া বেতন দিয়ে দিতে হবে
৩। শিল্পীরা সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজ করবেন
৪। ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে ঘণ্টাপ্রতি টাকা
৫। ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া টাকা মেটাতে হবে
বাংলা বিনোদনের প্রত্যেকটি চ্যানেলেই আপাতত বন্ধ থাকছে সিরিয়াল৷ তবে জানা গিয়েছে, টাইমস্লট জিইয়ে রাখতে বেশিরভাগ সিরিয়ালের পুরনো এপিসড রিপিট হিসেবে দেখানো হবে ৷
বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতেই টানা তিন দিন ধরে টালিগঞ্জে বন্ধ রয়েছে বহু জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালের শ্যুটিং। রবিবার সমাধানের খোঁজে আর্টিস্ট ফোরাম এবং প্রযোজকরা বৈঠকও করেন। কিন্তু তাতেও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি । আর যার জেরেই রবিবারেও বন্ধ রয়েছে মেগা সিরিয়ালের শ্যুটিং।
আর্টিস্ট ফোরামের অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কিছু মেগা সিরিয়ালের অভিনেতাদের পারিশ্রমিক বকেয়া পড়ে রয়েছে। সেগুলি না মেটানো পর্যন্ত শ্যুটিয়ে অংশ নেবেন না কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রী।
আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা–অভিনেত্রীদের জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কল টাইমে মেকআপ করে শ্যুটিং ফ্লোরে গেলেও সহ অভিনেতা অভিনেত্রীদের বকেয়া পারিশ্রমিক না মেটা পর্যন্ত তাঁরা শ্যুটিং করতে পারবেন না। রবিবার এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম এবং প্রযোজকরা। কিন্তু তাতে কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। সেই সমাধানের খোঁজেই ফের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করবে প্রযোজকরা ৷ এমনকী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ আর্টিস্ট ফোরামের সকল সদস্যদের নিয়ে বৈঠকেও বসার কথা রয়েছে ৷
তবে এই ঘটনা প্রথম নয়, গত মাসেও বাংলা সিরিয়ালের শিল্পী সংগঠন বা আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যের প্রতিবাদের জেরে বন্ধ ছিল সিরিয়ালের শ্যুটিং ৷ তাঁদের অভিযোগ গভীর রাত পর্যন্ত শ্যুটিং চলে। কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাজের সময় বেঁধে দিতে হবে। এরকম একগুচ্ছ দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছে তারা। এই নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে শিল্পীদের সংগঠন।
---
কৈফিয়ত-১।।
সিরিয়ালের গুণমান এখানে বিবেচ্য বিষয়ই নয়। আসল সমস্যাটা শ্রমের, শ্রমিকের, মজুরির। ‘খাটছি অথচ পয়সা পাচ্ছি না’— সমস্যা বলতে এটাই। সিরিয়ালের বিষয়বস্তু কী হবে, তা অভিনেতা-অভিনেত্রী তো কোন ছাড়, এমনকী, পরিচালকেরও হাতে থাকে না, প্রায়শই।
আর সিরিয়াল বন্ধ হলে? তখন বিজ্ঞাপন দেখার জন্য কি লোকে বসে থাকবে টিভির সামনে? বিজ্ঞাপন দেখাতে হলে সিরিয়াল চালাতে হবে। তা ছাড়া কালো টাকা সাদা করার চাপ আছে।
সিরিয়াল কেন ভালো হয় না, তার কারণ অনেক এবং তর্কটাও একেবারেই আলাদা। আর শুধু সিরিয়াল ভালো হয় না, তা তো নয়। ক’টা সিনেমা, নাটক, গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রতিবেদন ভালো হয়? ক’টা খেলা ভালো হয়? ক’টা দল, সংস্থা, রাজনৈতিক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভালো হয়? ক’টা সম্পর্ক, প্রেম, সংসার, চাকরি ভালো হয়? ক’টা মন্ত্রী, আমলা, সরকার, ডাক্তার, মিস্তিরি, কাজের লোক, প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু ভালো হয়?
আসলে ভালো-মন্দের ওপর কিছু নির্ভর করে না। ব্যাপারটা লাভজনক কি না, এটাই আসলি বাত। অনেক টি আর পি থাকা সত্ত্বেও সিরিয়ালগুলো যথেষ্ট মুনাফা নিশ্চয়ই দিচ্ছে না। তাই খরচ কাটছাট। আর সব শিল্পের মতো এই বিনোদন শিল্পেও সবার আগে কোপ শ্রমিক কলা-কুশলীদের ওপরই। আশ্বিনের শারদপ্রাতে যতই গলা কাঁপাও, যতই মঞ্চ আলোকিত করো না কেন— হে কলাকুশলী, শিল্পী— আদতে তুমি শ্রমিক, কর্মচারী। তোমার ওজনও সেই দাঁড়িপাল্লাতেই হবে, যেখানে কিছুক্ষণ আগে তোলা হয়েছিল কোনও বিড়িশ্রমিক বা পাথর খাদানের কর্মচারীকে!
---
কৈফিয়ত-২।।
একটা ভালো নাটক সিনেমা বা সিরিয়াল বানাতে এক জন প্রতিভাবান লোকের লাগে প্রয়োজনীয় মালমশলা, টাকা আর বক্তব্য প্রকাশের পরিসর। সেটা কি আছে?
ধরা যাক, কেউ মনে করল সে নিজের টাকাতেই ছবি বানাবে। বাস্তবকে তুলে ধরবে শিল্পের আঙ্গিকে। ছবে বানানো হবে সুভাষ চক্কোত্তির ‘অপারেশন সানশাইন’, নন্দীগ্রামে জমির লড়াইয়ের অন্তরালে, কিষেণজির সান্ধ্য ফোন-ইন এবং মৃত্যু, ছত্রধর মাহাতের উত্থান-পতন, কিংবা টলিউডে বাংলা সিরিয়াল কী ভাবে তৈরি হয়, পরিচালক-অভিনেতা অভিনেত্রীদের একদিন-প্রতিদিন, ভারত সেবাশ্রম, মাদার টেরেজা, মাদ্রাসা বা মুসলিম সেমিনারি ও সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর বা রামকৃষ্ণ মিশনের সমাজসেবার অজানা গপ্পো, কাশ্মীরে সেনা অভিযান, মণিপুরে থাংসাম মনোরমার দিনলিপি, এক বাস ড্রাইভার বা কনডাক্টরের সারাদিন, ডুয়ার্সে জঙ্গল সাফ ও কাঠ পাচার, উন্নয়নের নামে কংক্রিটের সমাজ, শিল্পের নামে বিদেশ সফর, ছত্তিশগড়ে মাও’রাজ, বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ, তিরুপতি কিংবা পদ্মনাভ মন্দিরের সোনাদানা, ধর্ম ও রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের বিষয়আশয়, জীবনযাত্রা— ইত্যাদি হরেকরকম্বা বিষয় নিয়ে। চালু ব্যবস্থায় করা যাবে কি— এসব সিরিয়াল সিনেমা ডকুমেন্টারি? কী মনে হয়?
---
কৈফিয়ত-১।।
সিরিয়ালের গুণমান এখানে বিবেচ্য বিষয়ই নয়। আসল সমস্যাটা শ্রমের, শ্রমিকের, মজুরির। ‘খাটছি অথচ পয়সা পাচ্ছি না’— সমস্যা বলতে এটাই। সিরিয়ালের বিষয়বস্তু কী হবে, তা অভিনেতা-অভিনেত্রী তো কোন ছাড়, এমনকী, পরিচালকেরও হাতে থাকে না, প্রায়শই।
আর সিরিয়াল বন্ধ হলে? তখন বিজ্ঞাপন দেখার জন্য কি লোকে বসে থাকবে টিভির সামনে? বিজ্ঞাপন দেখাতে হলে সিরিয়াল চালাতে হবে। তা ছাড়া কালো টাকা সাদা করার চাপ আছে।
সিরিয়াল কেন ভালো হয় না, তার কারণ অনেক এবং তর্কটাও একেবারেই আলাদা। আর শুধু সিরিয়াল ভালো হয় না, তা তো নয়। ক’টা সিনেমা, নাটক, গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রতিবেদন ভালো হয়? ক’টা খেলা ভালো হয়? ক’টা দল, সংস্থা, রাজনৈতিক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভালো হয়? ক’টা সম্পর্ক, প্রেম, সংসার, চাকরি ভালো হয়? ক’টা মন্ত্রী, আমলা, সরকার, ডাক্তার, মিস্তিরি, কাজের লোক, প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু ভালো হয়?
আসলে ভালো-মন্দের ওপর কিছু নির্ভর করে না। ব্যাপারটা লাভজনক কি না, এটাই আসলি বাত। অনেক টি আর পি থাকা সত্ত্বেও সিরিয়ালগুলো যথেষ্ট মুনাফা নিশ্চয়ই দিচ্ছে না। তাই খরচ কাটছাট। আর সব শিল্পের মতো এই বিনোদন শিল্পেও সবার আগে কোপ শ্রমিক কলা-কুশলীদের ওপরই। আশ্বিনের শারদপ্রাতে যতই গলা কাঁপাও, যতই মঞ্চ আলোকিত করো না কেন— হে কলাকুশলী, শিল্পী— আদতে তুমি শ্রমিক, কর্মচারী। তোমার ওজনও সেই দাঁড়িপাল্লাতেই হবে, যেখানে কিছুক্ষণ আগে তোলা হয়েছিল কোনও বিড়িশ্রমিক বা পাথর খাদানের কর্মচারীকে!
---
কৈফিয়ত-২।।
একটা ভালো নাটক সিনেমা বা সিরিয়াল বানাতে এক জন প্রতিভাবান লোকের লাগে প্রয়োজনীয় মালমশলা, টাকা আর বক্তব্য প্রকাশের পরিসর। সেটা কি আছে?
ধরা যাক, কেউ মনে করল সে নিজের টাকাতেই ছবি বানাবে। বাস্তবকে তুলে ধরবে শিল্পের আঙ্গিকে। ছবে বানানো হবে সুভাষ চক্কোত্তির ‘অপারেশন সানশাইন’, নন্দীগ্রামে জমির লড়াইয়ের অন্তরালে, কিষেণজির সান্ধ্য ফোন-ইন এবং মৃত্যু, ছত্রধর মাহাতের উত্থান-পতন, কিংবা টলিউডে বাংলা সিরিয়াল কী ভাবে তৈরি হয়, পরিচালক-অভিনেতা অভিনেত্রীদের একদিন-প্রতিদিন, ভারত সেবাশ্রম, মাদার টেরেজা, মাদ্রাসা বা মুসলিম সেমিনারি ও সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর বা রামকৃষ্ণ মিশনের সমাজসেবার অজানা গপ্পো, কাশ্মীরে সেনা অভিযান, মণিপুরে থাংসাম মনোরমার দিনলিপি, এক বাস ড্রাইভার বা কনডাক্টরের সারাদিন, ডুয়ার্সে জঙ্গল সাফ ও কাঠ পাচার, উন্নয়নের নামে কংক্রিটের সমাজ, শিল্পের নামে বিদেশ সফর, ছত্তিশগড়ে মাও’রাজ, বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ, তিরুপতি কিংবা পদ্মনাভ মন্দিরের সোনাদানা, ধর্ম ও রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের বিষয়আশয়, জীবনযাত্রা— ইত্যাদি হরেকরকম্বা বিষয় নিয়ে। চালু ব্যবস্থায় করা যাবে কি— এসব সিরিয়াল সিনেমা ডকুমেন্টারি? কী মনে হয়?
প্রসঙ্গঃ দেবব্রত বিশ্বাস
।। প্রসঙ্গঃ দেবব্রত বিশ্বাস।।
(২২ অগস্ট ১৯১১ – ১৮ অগস্ট ১৯৮০)
(২২ অগস্ট ১৯১১ – ১৮ অগস্ট ১৯৮০)
"জর্জ (দেবব্রত বিশ্বাস) তখন দাড়ি রাখছেন। গেরুয়া লুঙ্গি, ফতুয়া। হাতের লাঠিটা সর্বক্ষণের সঙ্গী। রোগ-জর্জর শরীর নিয়ে ইজিচেয়ারে শুয়ে বাইরে আকাশ দেখছেন। উত্তমকুমার এলেন শিল্পী-সংসদের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে। জর্জ বললেন, "আপনে আইছেন ক্যান? আমারে তো পুলিশ ডাকতে হইব?" অনেক করে উত্তম রাজী করালেন। জর্জ শর্ত দিলেন দুটি। বিজ্ঞাপনে 'দেবব্রত বিশ্বাস' লেখা যাবে না। লিখতে হবে 'এক বিতর্কিত শিল্পী।' আর মঞ্চেও তাই ঘোষণা করতে হবে। তাই হল। উত্তমকুমার মাইকে বললেন, এবার গান
শোনাবেন এক বিতর্কিত শিল্পী। পর্দা উঠে গেল,জর্জ গান শুরু করলেন।"
রবীন্দ্রসংগীত গায়ক ও শিক্ষক হিসেবেই পরিচিতি দেবব্রত বিশ্বাসের। কিন্তু তিনি ভারতের গণনাট্য আন্দোলনেরও অন্যতম পুরোধা ও একজন বিখ্যাত গণসঙ্গীত গায়কও বটে। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারের অব্যবহিত পূর্বে জন্ম বলে তাঁর ডাকনাম রাখা হয় জর্জ। পরবর্তীকালে অনুরাগীমহলে তিনি জর্জ বিশ্বাস বা জর্জদা নামেও পরিচিত হন।
১৯২৮ সালে ব্রাহ্ম সমাজের একটি অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ'কে দেখেছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। প্রথম দর্শনেই প্রেম। সেই থেকেই রবীন্দ্রসংগীত পাকাপাকি ভাবে তাঁর গলায়।
১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতির সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার ভঙ্গি নিয়ে তাঁর মতভেদ শুরু হয়। মতভেদ তীব্র হলে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়াই বন্ধ করে দেন। ১৯৭১ সালের পর থেকে আর তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করেননি। তাঁর শেষ রেকর্ড এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁরই রচিত ও সুরারোপিত একটি গান – “ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না/আমি বুঝতাম পারলাম না/এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জ়ানা/জ়াইন্যা হুইন্যাও কেউ কিসু রাও করে না।”
এই কারণে তথাকথিত সুশীলসমাজে বিশ্বভারতীও কম সমালোচিত হয়নি। ২০০১ সালে ভারতে রবীন্দ্ররচনার কপিরাইট বিলুপ্ত হলে তাঁর বহু অপ্রকাশিত ও অননুমোদিত গান প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতাতেই নিজের বাসভবনে মৃত্যু হয় দেবব্রত বিশ্বাসের। তাঁর আত্মজীবনী ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’ থেকে তাঁর জীবন ও বিশ্বভারতীর সঙ্গে তাঁর মতভেদের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
১৯৭৮ সালের ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রসদন চত্বরে আয়োজিত ‘কবিপ্রণাম’ অনুষ্ঠানে দেবব্রত বিশ্বাসের গান শোনার সুযোগ হয়েছিল। ওই একবারই। তখন তিনি খুব অসুস্থ। কী গেয়েছিলেন, মনে নেই। কিন্তু তখন থেকেই আমি তাঁর ফ্যান। (ওই অনুষ্ঠানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কবিতা আবৃত্তিও শুনেছিলাম।)
(এখানে একটা পৃষ্ঠার কপি দেওয়া হল, যেখানে রবি ঠাকুর সম্পর্কে তাঁর মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।)
শোনাবেন এক বিতর্কিত শিল্পী। পর্দা উঠে গেল,জর্জ গান শুরু করলেন।"
রবীন্দ্রসংগীত গায়ক ও শিক্ষক হিসেবেই পরিচিতি দেবব্রত বিশ্বাসের। কিন্তু তিনি ভারতের গণনাট্য আন্দোলনেরও অন্যতম পুরোধা ও একজন বিখ্যাত গণসঙ্গীত গায়কও বটে। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারের অব্যবহিত পূর্বে জন্ম বলে তাঁর ডাকনাম রাখা হয় জর্জ। পরবর্তীকালে অনুরাগীমহলে তিনি জর্জ বিশ্বাস বা জর্জদা নামেও পরিচিত হন।
১৯২৮ সালে ব্রাহ্ম সমাজের একটি অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ'কে দেখেছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। প্রথম দর্শনেই প্রেম। সেই থেকেই রবীন্দ্রসংগীত পাকাপাকি ভাবে তাঁর গলায়।
১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতির সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার ভঙ্গি নিয়ে তাঁর মতভেদ শুরু হয়। মতভেদ তীব্র হলে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়াই বন্ধ করে দেন। ১৯৭১ সালের পর থেকে আর তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করেননি। তাঁর শেষ রেকর্ড এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁরই রচিত ও সুরারোপিত একটি গান – “ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না/আমি বুঝতাম পারলাম না/এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জ়ানা/জ়াইন্যা হুইন্যাও কেউ কিসু রাও করে না।”
এই কারণে তথাকথিত সুশীলসমাজে বিশ্বভারতীও কম সমালোচিত হয়নি। ২০০১ সালে ভারতে রবীন্দ্ররচনার কপিরাইট বিলুপ্ত হলে তাঁর বহু অপ্রকাশিত ও অননুমোদিত গান প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতাতেই নিজের বাসভবনে মৃত্যু হয় দেবব্রত বিশ্বাসের। তাঁর আত্মজীবনী ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’ থেকে তাঁর জীবন ও বিশ্বভারতীর সঙ্গে তাঁর মতভেদের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
১৯৭৮ সালের ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রসদন চত্বরে আয়োজিত ‘কবিপ্রণাম’ অনুষ্ঠানে দেবব্রত বিশ্বাসের গান শোনার সুযোগ হয়েছিল। ওই একবারই। তখন তিনি খুব অসুস্থ। কী গেয়েছিলেন, মনে নেই। কিন্তু তখন থেকেই আমি তাঁর ফ্যান। (ওই অনুষ্ঠানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কবিতা আবৃত্তিও শুনেছিলাম।)
(এখানে একটা পৃষ্ঠার কপি দেওয়া হল, যেখানে রবি ঠাকুর সম্পর্কে তাঁর মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।)
প্রসঙ্গ রূপা গাঙ্গুলি
প্রসঙ্গঃ রূপা গাঙ্গুলি...
অভিনেত্রী কাম নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি’কে যারা ট্রোল করছেন, তাঁদের উদ্দেশে কয়েকটা কথা বলা দরকার।
প্রথমত, বিজেপি’র নেত্রী হিসেবে এবং সংঘের অনুগত হিসেবে রূপা যে মন্তব্য করেছেন, তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ, ‘এ পার’টা হিন্দুদের আর ‘ও পার’টা মুসলমান’দের— এটা না বলতে পারলে বিজেপি করা চলে না।
দ্বিতীয়ত, হিন্দুত্বের ধারণাটা তৈরি করেছে এবং প্রচার করেছে আরএসএস। সাভারকার, হেডগাওয়ার, গোলওয়ালকার প্রমুখের গোলগোল লেখার সারসংকলন করে সুদর্শনরা ‘হিন্দুত্ব’ সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তা হলঃ
১। হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত ভূমি’কে যারা পিতৃভূমি (খেয়াল করুন, মাতৃভূমি নয়) তথা পুণ্যভূমি বলে মনে করেন, তাঁরাই হিন্দু।
২। যারা রাম’কে দেবতা বা জাতীয় বীর নায়ক হিসেবে মেনে নেন, তাঁরা হিন্দু।
অর্থাৎ, যারা এই দুটো শর্ত মানেন না, তাঁরা হিন্দু নন।
তৃতীয়ত, ভারতবর্ষ হিন্দুর দেশ। এখানে একটি মাত্র হিন্দু সংস্কৃতি (পড়ুন, ‘হিন্দুত্ব)-ই চলবে। তার বাইরে যাহা বাহান্ন তাহাই ছাপ্পান্ন, অর্থাৎ যাহা বিধর্মী, তাহাই বহিরাগত।
হিন্দুত্বের এহেন মাপকাঠিতে ভারতবর্ষীয় মুসলমান, খ্রিস্টান’দের জন্ম এই ভূখণ্ডে হলেও তাঁরা ‘বহিরাগত’। কারণ, তাঁরা যদি ‘ধার্মিক’ হন, তা হলে এই দেশকে একাধারে ‘পিতৃভূমি ও পুণ্যভূমি’ হিসেবে মেনে নিতে পারেন না। কেন না, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁদের ‘পুণ্যভূমি’ ভারতীয় ভূখণ্ডের বাইরে, জেরুজালেম কিংবা মক্কা-মদিনায়। ফলে তাঁরা কখনই ‘হিন্দু’ হতে পারবেন না।
আরএসএস-এর এই যুক্তি কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা কাল্পনিক তত্ত্বের ওপর। সেটা হলঃ ভারতের ইতিহাস হল হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের সংগ্রাম। হিন্দুরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই করে। কোন লড়াই? না, মহম্মদ ঘোরির সঙ্গে পৃথ্বীরাজ চৌহানের। বাবরের সঙ্গে সংগ্রাম সিংহের। আকবরের সঙ্গে রানাপ্রতাপের। ঔরংজেবের সঙ্গে শিবাজির।
ওই যুদ্ধগুলো হয়েছে নিশ্চয়ই। কিন্তু তা কখনই হিন্দু বনাম মুসলমান ছিল না। ছিল দুই সাম্রাজ্যবাদী শাসকের লড়াই। ইতিহাসের তথ্য সে কথাই বলে। তবু তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা করে একটা মিথ বানানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে ‘হিন্দুত্ব’-এর একটা তাত্ত্বিক ভিত।
মাধ্যমিকের পড়াশোনা আর সামান্য কাণ্ডজ্ঞান থাকলে যে কেউ সঙ্ঘনেতাদের এই কুযুক্তি ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু সঙ্ঘের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা যে করছে, তাকে এটা মুখস্থ করতেই হবে। রূপা সেটা করেছেন। কেন না, স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার পেশাদারি দক্ষতা তাঁর আছে। শিক্ষিত হিন্দুদের মধ্যে তো বটেই, এমনকী, ‘প্রগতিশীল’ নামধারী মুসলমান সমাজেরও তো অনেককে দেখা যাচ্ছে ভুলভাল সংঘশিক্ষা অনায়াসে গলাঃধকরণ করতে, সহজপাচ্য না হওয়া সত্ত্বেও।
রূপা’কে ট্রোল করা তাই পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছু নয়। তার চেয়ে চলুন, আরএসএস বিরচিত ও নির্মিত হিন্দুত্বের মিথ’টাকে ধসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা যাক।
sudip moitra
প্রথমত, বিজেপি’র নেত্রী হিসেবে এবং সংঘের অনুগত হিসেবে রূপা যে মন্তব্য করেছেন, তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ, ‘এ পার’টা হিন্দুদের আর ‘ও পার’টা মুসলমান’দের— এটা না বলতে পারলে বিজেপি করা চলে না।
দ্বিতীয়ত, হিন্দুত্বের ধারণাটা তৈরি করেছে এবং প্রচার করেছে আরএসএস। সাভারকার, হেডগাওয়ার, গোলওয়ালকার প্রমুখের গোলগোল লেখার সারসংকলন করে সুদর্শনরা ‘হিন্দুত্ব’ সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তা হলঃ
১। হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত ভূমি’কে যারা পিতৃভূমি (খেয়াল করুন, মাতৃভূমি নয়) তথা পুণ্যভূমি বলে মনে করেন, তাঁরাই হিন্দু।
২। যারা রাম’কে দেবতা বা জাতীয় বীর নায়ক হিসেবে মেনে নেন, তাঁরা হিন্দু।
অর্থাৎ, যারা এই দুটো শর্ত মানেন না, তাঁরা হিন্দু নন।
তৃতীয়ত, ভারতবর্ষ হিন্দুর দেশ। এখানে একটি মাত্র হিন্দু সংস্কৃতি (পড়ুন, ‘হিন্দুত্ব)-ই চলবে। তার বাইরে যাহা বাহান্ন তাহাই ছাপ্পান্ন, অর্থাৎ যাহা বিধর্মী, তাহাই বহিরাগত।
হিন্দুত্বের এহেন মাপকাঠিতে ভারতবর্ষীয় মুসলমান, খ্রিস্টান’দের জন্ম এই ভূখণ্ডে হলেও তাঁরা ‘বহিরাগত’। কারণ, তাঁরা যদি ‘ধার্মিক’ হন, তা হলে এই দেশকে একাধারে ‘পিতৃভূমি ও পুণ্যভূমি’ হিসেবে মেনে নিতে পারেন না। কেন না, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁদের ‘পুণ্যভূমি’ ভারতীয় ভূখণ্ডের বাইরে, জেরুজালেম কিংবা মক্কা-মদিনায়। ফলে তাঁরা কখনই ‘হিন্দু’ হতে পারবেন না।
আরএসএস-এর এই যুক্তি কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা কাল্পনিক তত্ত্বের ওপর। সেটা হলঃ ভারতের ইতিহাস হল হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের সংগ্রাম। হিন্দুরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই করে। কোন লড়াই? না, মহম্মদ ঘোরির সঙ্গে পৃথ্বীরাজ চৌহানের। বাবরের সঙ্গে সংগ্রাম সিংহের। আকবরের সঙ্গে রানাপ্রতাপের। ঔরংজেবের সঙ্গে শিবাজির।
ওই যুদ্ধগুলো হয়েছে নিশ্চয়ই। কিন্তু তা কখনই হিন্দু বনাম মুসলমান ছিল না। ছিল দুই সাম্রাজ্যবাদী শাসকের লড়াই। ইতিহাসের তথ্য সে কথাই বলে। তবু তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা করে একটা মিথ বানানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে ‘হিন্দুত্ব’-এর একটা তাত্ত্বিক ভিত।
মাধ্যমিকের পড়াশোনা আর সামান্য কাণ্ডজ্ঞান থাকলে যে কেউ সঙ্ঘনেতাদের এই কুযুক্তি ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু সঙ্ঘের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা যে করছে, তাকে এটা মুখস্থ করতেই হবে। রূপা সেটা করেছেন। কেন না, স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার পেশাদারি দক্ষতা তাঁর আছে। শিক্ষিত হিন্দুদের মধ্যে তো বটেই, এমনকী, ‘প্রগতিশীল’ নামধারী মুসলমান সমাজেরও তো অনেককে দেখা যাচ্ছে ভুলভাল সংঘশিক্ষা অনায়াসে গলাঃধকরণ করতে, সহজপাচ্য না হওয়া সত্ত্বেও।
রূপা’কে ট্রোল করা তাই পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছু নয়। তার চেয়ে চলুন, আরএসএস বিরচিত ও নির্মিত হিন্দুত্বের মিথ’টাকে ধসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা যাক।
sudip moitra
https://www.youtube.com/watch?v=0M84jp2a7rI
Subscribe to:
Posts (Atom)
